Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Tuesday, June 20, 2017

মন ভাল নেই, মহাদেব সাহা

বিষাদ ছুঁয়েছে আজ, মন ভালো নেই,
মন ভালো নেই;
ফাঁকা রাস্তা, শূন্য বারান্দা
সারাদিন ডাকি সাড়া নেই,
একবার ফিরেও চায়না কেউ
পথ ভুল করে চলে যায়, এদিকে আসে না
আমি কি সহস্র সহস্র বর্ষ এভাবে
তাকিয়ে থাকবো শূন্যতার দিকে?
এই শূন্য ঘরে, এই নির্বসনে কতকাল,
আর কতকাল!
আজ দুঃখ ছুঁয়েছে ঘর বাড়ি,
উদ্যানে উঠেছে ক্যাকটাস-
কেউ নেই, কড়া নাড়ার মতো কেউ নেই,
শুধু শূন্যতার এই দীর্ঘশ্বাস, এই দীর্ঘ পদধ্বনি।

টেলিফোন ঘোরাতে ঘোরাতে আমি ক্লান্ত
ডাকতে ডাকতে একশেষ;
কেউ ডাক শোনে না, কেউ ফিরে তাকায় না
এই হিম ঘরে ভাঙা চেয়ারে একা বসে আছি।
একি শাস্তি তুমি আমাকে দিচ্ছো ঈশ্বর,
এভাবে দগ্ধ হওয়ার নাম কি বেঁচে থাকা!
তবু মানুষ বেঁচে থাকতে চায়, আমি বেঁচে থাকতে চাই
আমি ভালোবাসতে চাই, পাগলের মতো
ভালোবাসতে চাই-
এই কি আমার অপরাধ!
আজ বিষাদ ছুঁয়েছে বুক, বিষাদ ছুঁয়েছে বুক
মন ভালো নেই, মন ভালো নেই;
তোমার আসার কথা ছিলো, তোমার যাওয়ার
কথা ছিলো-
আসা যাওয়ার পথের ধারে
ফুল ফোটানোর কথা ছিলো
সেসব কিছুই হলো না, কিছুই হলো না
আমার ভেতরে শুধু এক কোটি বছর ধরে অশ্রুপাত
শুধু হাহাকার
শুধু শূন্যতা, শূন্যতা।
তোমার শূন্য পথের দিকে তাকাতে তাকাতে
দুই চোখ অন্ধ হয়ে গেলো,
সব নদীপথ বন্ধ হলো, তোমার সময় হলো না-
আজ সারাদিন বিষাদ পর্ব, সারাদিন তুষারপাত…
মন ভালো নেই,মন ভালো নেই।

Saturday, June 10, 2017

তুমি আজ আসবে বলে, শিমুল মুস্তাফা

তুমি আজ আসবে বলে-
বহুক্ষণ আমি অবাক হয়েছি!
ঘরের চৌদিকের দেয়ালের ঝুলগুলো পরিষ্কার
করেছি
আমার ঘরটাকে আমি নিজেই আপন
করে সাজিয়েছি
সেই সারা রাত ধরে!
এটা কদম ফুলের মাস
আমি ভুলিনি, তাই
তোমার প্রত্যাশায় আমি ছিঁড়েছি
এক গোছা কদম ফুল
সুগন্ধি সাবান নিয়ে ছুটে গেছি পুকুর
পাড়ে
আমার এক মাত্র সাদা শার্ট
টাকে ধোবার জন্য
বিশ্বাস কর, শার্টের কলারে ভীষণ
ময়লা ছিল
তবুও আমি ভালো করে ধুইনি,
ছিঁড়ে যাবার ভয়ে?
পরিচ্ছন্নতার ভয়ের চেয়ে, তোমার
প্রতি ভয়টা বেশী বলেই হয়ত!
ধুলো পড়া আয়নার কাছে গিয়েছি বার বার।
হেয়ার ইস্টাইল ঠিক করতে করতে-
নিজের প্রতি ঘেন্না জমিয়েছি
তবুও, আমি কত রাত গুলো কম খেয়ে
পয়সা জমাচ্ছি, শুধু প্রত্যাশায়
তুমি আজ আসবে
নিজের জীবনের চেয়ে-
ভালবাসার মূল্য নাকি অনেক বেশী?
অথচ, অথচ জীবনের জন্যে ভালবাসা
নারীর সৌন্দর্যের চেয়ে- পুরুষের
পৌরস্য অনেক ঊর্ধ্বে
অথচ, আমি আজ ভীষণ অসহায়
তবুও বিশ্বাস কর, হে নারী-
বেঁচে থাকার ইচ্ছা এখন আগের
চেয়ে ঢের বেশী
তোমার চিঠিতে তুমি উল্লেখ করেছ-
শনিবারে তুমি আসছ, তাই
সমস্ত শনিকে কাঁটিয়ে, সেই শনির
অপেক্ষায় ছিলাম
আজকের এই দিনে আমি স্বর্গে যেতেও
রাজি নই
আজ আমি স্বর্গ কে উৎসর্গ করলাম
আজ আমি হৃদপিণ্ডে নাঙল চালানো বন্ধ
করলাম
আমি আমি মুখ দিয়ে চিমনীর মত-
বিষাক্ত ধোঁয়া বের করা বন্ধ করলাম
আজ আমি বন্ধ করলাম,
চরিত্রকে বিক্রি করা
যদি কোনদিন মনে হয়,
আমার হৃদপিণ্ডে দুষিত রক্ত আছে!
যদি কোনদিন মনে হয়,
আমার ফুসফুসে বিষাক্ত ধোঁয়া আছে!
যদি কোনদিন মনে হয়,
আমার চরিত্রে কলঙ্ক আছে!
তবে, তবে সেদিন আমার বিশ্বাসে
তোমার বিষ দাঁত বসিয়ে দিও
আমি সব আসনে থেকে, নির্দ্বিধায়
সেই বিষ-
গ্রহণ করবো, গ্রহণ করবো, গ্রহণ করবো ।

Wednesday, May 17, 2017

কান্না, ( আহসান হাবীব)

কান্না

প্রেম নেই তবু প্রেমের কান্না মরেনি
তুমি নেই তবু তোমাকে পাওয়ার বাসনার সোনা ঝরেনি
এই সর্পিল জীবনের পথে আলগোছে ছুঁয়ে যাওয়া
তুমি যেন কোন চৈত্র রাতের দূর সমুদ্র হাওয়া!

তুমি নেই তবু একটি বিপুল বিস্ময় আছে মনে-
হঠাৎ কখনো পাখি ডেকে যায় বনে,
হঠাৎ কখনো বাতার পাশে হেনার গন্ধ জাগে;
হঠাৎ কখনো দুঃস্বহ অনুরাগে
একটি ব্যকুল গান রেখে যাও সেখানে
আমার গানের শ্রান্ত পাখিরা নীড় খুঁজে ফেরে যেখানে।

কোনো কোনো দিন বৈশাখী মেঘ, দোলা দিয়ে যাও তুমি,
কেঁপে ওঠে ঘন অমাবশ্যায় নির্জন বনভূমি।
সাড়া দাও তুমি গহন অন্ধকারে,
চেনা পৃথিবীর দিগন্ত রেখা ঘুঁচে যায় বারেবারে।
জাগে শুধু সেই অন্ধকারের গহনে
কুঁড়ির গন্ধ অন্ধ আবেগে অনাদি কালের দহনে।

তোমার পাখার সুর জেগে ওঠে রূপালি নদীর তীরে
আমার পায়ের চিহ্ন তখন রাতের পাহাড় ঘিরে,
ছুঁয়ে যেতে চায় তোমার আকাশ আলগোছে ভালবেসে।
হঠাৎ কখনো পথ ঢেলে দাও তোমার কৃষ্ণ কেশে!
যারে পেতে চাই নিজের ছায়ায় ঢাকা সে
বৈশাখী মেঘ তবু রেখে যায় ঝড়ের ইশারা আকাশে।

সেই বৈশাখী মেঘের আবেগে আষাঢ়ের আঙিনাতে
যদি কোনদিন বন্যা নামায় এমনি ঝড়ের রাতে-
এই আশা নিয়ে প্রেমের কান্না জাগে,
দিনের পৃথিবী ঘুমালে তখন স্বপ্নের দোলা লাগে।

#আহসান হাবীব

Wednesday, March 15, 2017

অামি ছাড়া অনেককেইতো অনেক দিলে ( পুর্ণেন্দু পুত্রী)

আমি ছাড়া অনেককেই তো অনেক দিলে
এর আকাশে ওর আকাশে
ওষ্ঠপুটের অনেক পাখি উড়িয়ে দিলে
পায়রাকে ধান খুটিতে দিলে খোয়াই জুড়ে
বুকের দুটো পর্দাঢাকা জানলা খুলে
কতজনকে হাত-ডোবানো বৃষ্টি দিলে
কত মুখের রোদের রেখা মুছিয়ে দিলে নীল রুমালে

আমি ছাড়া অনেককেই তো অনেক দিলে,

চায়ের কাপে মিষ্টি দিলে হাসির থেকে
নকশাকাটা কাঁচের গ্লাসে সরবতে সুখ মিশিয়ে দিলে
নখের আঁচড় কাটতে দিলে ডালিমবনে
দাঁতের ফাঁকে লাল সুপুরি ভাঙ্গতে দিলে

আমি ছাড়া অনেককেই তো অনেক দিলে।

একটা জিনিস দাওনি কেবল কাউকে তুমি
আলমারিটার ঝুলন চাবি,
শূন্যতাকে রঙীন করার সাম্পু সাবান
সায়া শাড়ীর ভাঁজের নিচে,
একটা ছোটো কৌটো আছে,
তার ভিতরে ভোমরা থাকে,
সে ভোমরাটি সকল জানে,
কোন্ হাসিতে রক্ত ঝরে ঠিক অবিকল হাসির মতো,
সে ভোমরাটি সকল জানে,
কোন রুমালে কান্না এবং কোন আঁচলে বুকের ক্ষত।

দেয়ালজুড়ে বিকট ছায়া ভাবছো বুঝি অন্য কারো?
কার ছায়াটি কিরূপ গাঢ় সে ভোমরাটি সকল জানে।

আমায় কিছু লিখতে হবে
লিখতে গেলে ভোমরাটি চাই।
তোমার ঘরের আলমারিটার ঝুলন-চাবি
আমায় দেবে?

Sunday, March 12, 2017

আহ্বান (জুলহাস উদ্দীন)

মর্জী,তুমি শুধু মর্জি করেই গেলে
আমার ভালোবাসার পাত্রটা ছুয়েও দেখলেনা,
অপাত্রে করেছো দান তোমার প্রেমের পাত্র,
পান করে সে মধুকর তোমায় করেছে নিঃশ্ব,
আজ তুমি সুরাবিহীণ।

অথচ আমি কানায় কানায় ভরা প্রেমের নদী,
ভুল করেও ডুব সাঁতার দিলেনা কখোনো,
অবুজ বালিকার মত অবহেলায় চলে গেলে,
ফিরেও দেখলে না কতটা কাঙ্গাল আমি।

যা গিয়েছে চলে কখোনোই কি ছিলো তা তোমার?
তার জন্য বৃথা কেনো অপেক্ষা?
এর চেয়ে এই ভাল যা রয়েছে আজো,
তার মাঝেই না হয় তোমাকে খোজো!

12/09/15

Tuesday, March 7, 2017

কথোপকথন ৫ - পূর্ণেন্দু পুত্রী

কথোপকথন ৫ – পূর্ণেন্দু পুত্রী

আমি তোমার পান্থপাদপ
তুমি আমার অতিথশালা ।
হঠাৎ কেন মেঘ চেঁচালো

-দরজাটা কই, মস্ত তালা ?

তুমি আমার সমুদ্রতীর
আমি তোমার উড়ন্ত চুল ।
হঠাৎ কেন মেঘ চেঁচালো

-সমস্ত ভুল , সমস্ত ভুল ?

আমি তোমার হস্তরেখা
তুমি আমার ভর্তি মুঠো ।
হঠাৎ কেন মেঘ চেঁচালো

-কোথায় যাবি, নৌকো ফুটো ?

Monday, February 13, 2017

কারো কারো জন্য এমন লাগে কেন!

কারো কারো জন্য এমন লাগে কেন!

- তসলিমা নাসরিন-

জানি না কেন হঠাৎ কোনও কারণ নেই,
কিছু নেই, কারও কারও জন্য খুব 
অন্যরকম লাগে অন্য রকম লাগে,

কোনও কারণ নেই, তারপরও বুকের মধ্যে চিনচিনে কষ্ট হতে থাকে,
কারুকে খুব দেখতে ইচ্ছে হয়, পেতে ইচ্ছে হয়, কারুর সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে বসতে ইচ্ছে হয়,

সারাজীবন ধরে সারাজীবনের গল্প করতে ইচ্ছে
হয়,
ইচ্ছে হওয়ার কোনও কারণ নেই, তারপরও ইচ্ছে হয়।
ইচ্ছের কোনও লাগাম থাকে না।
ইচ্ছেগুলো এক সকাল থেকে আরেক সকাল পর্যন্ত জ্বালাতে থাকে। প্রতিদিন।

ইচ্ছেগুলো পুরণ হয় না, তারপরও ইচ্ছেগুলো বেশরমের মত পড়ে থাকে,আশায় আশায় থাকে।
কষ্ট হতে থাকে, কষ্ট হওয়ার কোনও কারণ নেই, তারপরও হতে থাকে,সময়গুলো নষ্ট হতে থাকে।

কারও কারও জন্য জানি না জীবনের শেষ বয়সে এসেও সেই কিশোরীর মত কেন অনুভব করি।
কিশোরী বয়সেও যেমন লুকিয়ে রাখতে হত ইচ্ছেগুলো, এখনও হয়।

কি জানি সে, যার জন্য অন্যরকমটি লাগে,
যদি ইচ্ছেগুলো দেখে হাসে!
সেই ভয়ে লুকিয়ে রাখি ইচ্ছে, সেই ভয়ে আড়াল করে রাখি কষ্ট।

হেঁটে যাই, যেন কিছুই হয়নি, যেন আর সবার মত সুখী মানুষ আমিও, হেঁটে যাই।
যাই, কত কোথাও যাই, কিন্তু তার কাছেই কেবল যাই না, যার জন্য লাগে।

কারও কারও জন্য এমন অদ্ভুত অসময়ে বুক ছিঁড়ে যেতে থাকে কেন!
জীবনের কত কাজ বাকি, কত তাড়া!
তারপরও সব কিছু সরিয়ে রেখে তাকে ভাবি, তাকে না পেয়ে কষ্ট আমাকে কেটে কেটে
টুকরো করবে জেনেও তাকে ভাবি।

তাকে ভেবে কোনও লাভ নেই জেনেও ভাবি।
তাকে কোনওদিন পাবো না জেনেও তাকে পেতে চাই।