Showing posts with label kobita. Show all posts
Showing posts with label kobita. Show all posts

Tuesday, June 6, 2017

এলোমেলো, জুলহাস উদ্দীন

এলোমেলো
জুলহাস উদ্দীন

এখন আমি যখন তখন
যেমন ইচ্ছে বাচতে পারি,
ইচ্ছে হলেই হাসতে পারি, কাঁদতে পারি !

বেতাল সুরে তাল কাটে হায়
আমার গানে যখন তখন,
কবিতাতে,ভীষণ রকম ছন্দ-পতন !

আমার বুকেই চোখের জলের
অবাক করা অথই পানি,
ছলাৎ-ছলাৎ, এপার-ওপার কানাকানি !

আমার আকাশ মেঘলাছটা
কেমন যেন বিষাদ কালো,
নেইতো কোথাও, রৌদ্র আলো !

মনের মাঝের আঙ্গিনাতে
একটু খানি সুখ ফোটা নেই,
একটু খানি দুখ ফোটাও নেই !

সাদা কালো জীবনটাতে
হাজার রঙ্গের ছড়া-ছড়ি,
বড্ড বেশি বাড়া-বাড়ি !

Wednesday, May 17, 2017

কান্না, ( আহসান হাবীব)

কান্না

প্রেম নেই তবু প্রেমের কান্না মরেনি
তুমি নেই তবু তোমাকে পাওয়ার বাসনার সোনা ঝরেনি
এই সর্পিল জীবনের পথে আলগোছে ছুঁয়ে যাওয়া
তুমি যেন কোন চৈত্র রাতের দূর সমুদ্র হাওয়া!

তুমি নেই তবু একটি বিপুল বিস্ময় আছে মনে-
হঠাৎ কখনো পাখি ডেকে যায় বনে,
হঠাৎ কখনো বাতার পাশে হেনার গন্ধ জাগে;
হঠাৎ কখনো দুঃস্বহ অনুরাগে
একটি ব্যকুল গান রেখে যাও সেখানে
আমার গানের শ্রান্ত পাখিরা নীড় খুঁজে ফেরে যেখানে।

কোনো কোনো দিন বৈশাখী মেঘ, দোলা দিয়ে যাও তুমি,
কেঁপে ওঠে ঘন অমাবশ্যায় নির্জন বনভূমি।
সাড়া দাও তুমি গহন অন্ধকারে,
চেনা পৃথিবীর দিগন্ত রেখা ঘুঁচে যায় বারেবারে।
জাগে শুধু সেই অন্ধকারের গহনে
কুঁড়ির গন্ধ অন্ধ আবেগে অনাদি কালের দহনে।

তোমার পাখার সুর জেগে ওঠে রূপালি নদীর তীরে
আমার পায়ের চিহ্ন তখন রাতের পাহাড় ঘিরে,
ছুঁয়ে যেতে চায় তোমার আকাশ আলগোছে ভালবেসে।
হঠাৎ কখনো পথ ঢেলে দাও তোমার কৃষ্ণ কেশে!
যারে পেতে চাই নিজের ছায়ায় ঢাকা সে
বৈশাখী মেঘ তবু রেখে যায় ঝড়ের ইশারা আকাশে।

সেই বৈশাখী মেঘের আবেগে আষাঢ়ের আঙিনাতে
যদি কোনদিন বন্যা নামায় এমনি ঝড়ের রাতে-
এই আশা নিয়ে প্রেমের কান্না জাগে,
দিনের পৃথিবী ঘুমালে তখন স্বপ্নের দোলা লাগে।

#আহসান হাবীব

Sunday, March 12, 2017

আহ্বান (জুলহাস উদ্দীন)

মর্জী,তুমি শুধু মর্জি করেই গেলে
আমার ভালোবাসার পাত্রটা ছুয়েও দেখলেনা,
অপাত্রে করেছো দান তোমার প্রেমের পাত্র,
পান করে সে মধুকর তোমায় করেছে নিঃশ্ব,
আজ তুমি সুরাবিহীণ।

অথচ আমি কানায় কানায় ভরা প্রেমের নদী,
ভুল করেও ডুব সাঁতার দিলেনা কখোনো,
অবুজ বালিকার মত অবহেলায় চলে গেলে,
ফিরেও দেখলে না কতটা কাঙ্গাল আমি।

যা গিয়েছে চলে কখোনোই কি ছিলো তা তোমার?
তার জন্য বৃথা কেনো অপেক্ষা?
এর চেয়ে এই ভাল যা রয়েছে আজো,
তার মাঝেই না হয় তোমাকে খোজো!

12/09/15

Wednesday, March 8, 2017

ইচ্ছের দরোজায়,( রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)

সব কথা হয়ে গেলে শেষ
শব্দের প্লাবনে একা জেগে রবো নির্জন ঢেউ,
ভেসে ভেসে জড়াবো নিজেকে ।
শরীরের সকল নগ্নতায় আমি খেলা কোরে যাবো,
তীর ভেবে ভেঙে পড়বো আমার যৌবনে ।

কথা কি শেষ হয়ে যায়- সব কথা?
নাকি বুকের ভেতরে সব অসমাপ্ত ইচ্ছের মতো
দ্বিধাগ্রস্হ জেগে থাকে বুকে নিয়ে বিনিদ্র রাত,
জেগে জেগে নিজেকে দ্যাখে ভীষন উত্‍সাহে?

সব কথা শেষ হলে দরোজায় করাঘাত রেখে যাবো,
উত্‍কন্ঠার ধ্বনিরা বিলীন হবে ইথারের স্বাস্হ্যে-
দ্যাখা হবে না ।

শিথানের জানালা খুলে রেখে যাবো একটি চোখ,
শিশির চুমু খাবে চোখের উত্তাপে- চুমু খাবে ।
জানালায় রেখে যাবো একটা বিনিদ্র চোখ,
যে-চোখ আকাশ দ্যাখে, মানুষের স্বভাব দ্যাখে,
যে-চোখ স্বাতির মগ্নতা দেখে প্রেমার্দ্র বুকে
অনুভব জ্বেলে রাখে অশেষ বাসনা ।

সব কথা শেষ হলে ফিরে যাবো,
একটি চোখ রেখে যাবো শিথানের জানালায় ।
সব কথা শেষ হলে করাঘাত জাগাবে তোমায়,
তুমি এসে খুলবে দুয়োর- দ্যাখা হবে না ।।

Tuesday, March 7, 2017

পদ্মপাতার জল

তোমায় আমি – জীবনানন্দ দাশ 

তোমায় আমি দেখেছিলাম ব’লে 
তুমি আমার পদ্মপাতা হলে; 
শিশির কণার মতন শূন্যে ঘুরে 
শুনেছিলাম পদ্মপত্র আছে অনেক দূরে 
খুঁজে খুঁজে পেলাম তাকে শেষে। 

নদী সাগর কোথায় চলে ব’য়ে 
পদ্মপাতায় জলের বিন্দু হ’য়ে 
জানি না কিছু-দেখি না কিছু আর 
এতদিনে মিল হয়েছে তোমার আমার 
পদ্মপাতার বুকের ভিতর এসে। 

তোমায় ভালোবেসেছি আমি, তাই 
শিশির হয়ে থাকতে যে ভয় পাই, 
তোমার কোলে জলের বিন্দু পেতে 
চাই যে তোমার মধ্যে মিশে যেতে 
শরীর যেমন মনের সঙ্গে মেশে। 

জানি আমি তুমি রবে-আমার হবে ক্ষয় 
পদ্মপাতা একটি শুধু জলের বিন্দু নয়। 
এই আছে, নেই-এই আছে নেই-জীবন চঞ্চল; 
তা তাকাতেই ফুরিয়ে যায় রে পদ্মপাতার জল 
বুঝেছি আমি তোমায় ভালোবেসে।