Saturday, April 22, 2017
Sunday, April 2, 2017
নিরাশ্রয় পাঁচটি আঙুল
নিরাশ্রয় পাচঁটি আঙুল তুমি
নির্দ্বিধায় অলংকার করে নাও ,
এ আঙুল ছলনা জানে না।
একবার তোমার নোলক ,
দুল , হাতের চুড়ি কটিদেশে বিছা করে
অলংকৃত হতে দিলে বুঝবে হেলেন ,
এ আঙুল সহজে বাজে না।
একদিন একটি বেহালা নিজেকে বাজাবে বলে
আমার আঙুলে এসে দেখেছিলো
তার বিষাদের চেয়ে বিশাল বিস্তৃতি ,
আমি তাকে চলে যেতে বলিনি তবুও
ফিরে গিয়েছিলো সেই বেহালা সলাজে।
অসহায় একটি অঙ্গুরী
কনিষ্ঠা আঙুলে এসেই বলেছিলো ঘর,
অবশেষে সেও গেছে সভয়ে সলাজে।
ওরা যাক , ওরা তো যাবেই
ওদের আর দুঃখ কতোটুকু? ওরা কি মানুষ ?
হেলাল হাফিজ
Thursday, March 30, 2017
Wednesday, March 15, 2017
অামি ছাড়া অনেককেইতো অনেক দিলে ( পুর্ণেন্দু পুত্রী)
আমি ছাড়া অনেককেই তো অনেক দিলে
এর আকাশে ওর আকাশে
ওষ্ঠপুটের অনেক পাখি উড়িয়ে দিলে
পায়রাকে ধান খুটিতে দিলে খোয়াই জুড়ে
বুকের দুটো পর্দাঢাকা জানলা খুলে
কতজনকে হাত-ডোবানো বৃষ্টি দিলে
কত মুখের রোদের রেখা মুছিয়ে দিলে নীল রুমালে
আমি ছাড়া অনেককেই তো অনেক দিলে,
চায়ের কাপে মিষ্টি দিলে হাসির থেকে
নকশাকাটা কাঁচের গ্লাসে সরবতে সুখ মিশিয়ে দিলে
নখের আঁচড় কাটতে দিলে ডালিমবনে
দাঁতের ফাঁকে লাল সুপুরি ভাঙ্গতে দিলে
আমি ছাড়া অনেককেই তো অনেক দিলে।
একটা জিনিস দাওনি কেবল কাউকে তুমি
আলমারিটার ঝুলন চাবি,
শূন্যতাকে রঙীন করার সাম্পু সাবান
সায়া শাড়ীর ভাঁজের নিচে,
একটা ছোটো কৌটো আছে,
তার ভিতরে ভোমরা থাকে,
সে ভোমরাটি সকল জানে,
কোন্ হাসিতে রক্ত ঝরে ঠিক অবিকল হাসির মতো,
সে ভোমরাটি সকল জানে,
কোন রুমালে কান্না এবং কোন আঁচলে বুকের ক্ষত।
দেয়ালজুড়ে বিকট ছায়া ভাবছো বুঝি অন্য কারো?
কার ছায়াটি কিরূপ গাঢ় সে ভোমরাটি সকল জানে।
আমায় কিছু লিখতে হবে
লিখতে গেলে ভোমরাটি চাই।
তোমার ঘরের আলমারিটার ঝুলন-চাবি
আমায় দেবে?
Sunday, March 12, 2017
আহ্বান (জুলহাস উদ্দীন)
মর্জী,তুমি শুধু মর্জি করেই গেলে
আমার ভালোবাসার পাত্রটা ছুয়েও দেখলেনা,
অপাত্রে করেছো দান তোমার প্রেমের পাত্র,
পান করে সে মধুকর তোমায় করেছে নিঃশ্ব,
আজ তুমি সুরাবিহীণ।
অথচ আমি কানায় কানায় ভরা প্রেমের নদী,
ভুল করেও ডুব সাঁতার দিলেনা কখোনো,
অবুজ বালিকার মত অবহেলায় চলে গেলে,
ফিরেও দেখলে না কতটা কাঙ্গাল আমি।
যা গিয়েছে চলে কখোনোই কি ছিলো তা তোমার?
তার জন্য বৃথা কেনো অপেক্ষা?
এর চেয়ে এই ভাল যা রয়েছে আজো,
তার মাঝেই না হয় তোমাকে খোজো!
12/09/15
Wednesday, March 8, 2017
ইচ্ছের দরোজায়,( রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
সব কথা হয়ে গেলে শেষ
শব্দের প্লাবনে একা জেগে রবো নির্জন ঢেউ,
ভেসে ভেসে জড়াবো নিজেকে ।
শরীরের সকল নগ্নতায় আমি খেলা কোরে যাবো,
তীর ভেবে ভেঙে পড়বো আমার যৌবনে ।
কথা কি শেষ হয়ে যায়- সব কথা?
নাকি বুকের ভেতরে সব অসমাপ্ত ইচ্ছের মতো
দ্বিধাগ্রস্হ জেগে থাকে বুকে নিয়ে বিনিদ্র রাত,
জেগে জেগে নিজেকে দ্যাখে ভীষন উত্সাহে?
সব কথা শেষ হলে দরোজায় করাঘাত রেখে যাবো,
উত্কন্ঠার ধ্বনিরা বিলীন হবে ইথারের স্বাস্হ্যে-
দ্যাখা হবে না ।
শিথানের জানালা খুলে রেখে যাবো একটি চোখ,
শিশির চুমু খাবে চোখের উত্তাপে- চুমু খাবে ।
জানালায় রেখে যাবো একটা বিনিদ্র চোখ,
যে-চোখ আকাশ দ্যাখে, মানুষের স্বভাব দ্যাখে,
যে-চোখ স্বাতির মগ্নতা দেখে প্রেমার্দ্র বুকে
অনুভব জ্বেলে রাখে অশেষ বাসনা ।
সব কথা শেষ হলে ফিরে যাবো,
একটি চোখ রেখে যাবো শিথানের জানালায় ।
সব কথা শেষ হলে করাঘাত জাগাবে তোমায়,
তুমি এসে খুলবে দুয়োর- দ্যাখা হবে না ।।
Tuesday, March 7, 2017
কথোপকথন ৫ - পূর্ণেন্দু পুত্রী
কথোপকথন ৫ – পূর্ণেন্দু পুত্রী
আমি তোমার পান্থপাদপ
তুমি আমার অতিথশালা ।
হঠাৎ কেন মেঘ চেঁচালো
-দরজাটা কই, মস্ত তালা ?
তুমি আমার সমুদ্রতীর
আমি তোমার উড়ন্ত চুল ।
হঠাৎ কেন মেঘ চেঁচালো
-সমস্ত ভুল , সমস্ত ভুল ?
আমি তোমার হস্তরেখা
তুমি আমার ভর্তি মুঠো ।
হঠাৎ কেন মেঘ চেঁচালো
-কোথায় যাবি, নৌকো ফুটো ?